ছোট্ট নদী নবগঙ্গা, তার পাশে ছোট্ট একটি গ্রাম। সেই গ্রাম দরিমাগুরায় জন্ম অধীর বিশ্বাসের। জেলা যশোর। বাবা পেশায় ক্ষৌরকার। ছোট্ট এক থলে হাতে এক গ্রাম থেকে আর এক গ্রাম, হাট থেকে হাট, বাড়ি থেকে খেয়াঘাট। সঙ্গে বালক অধীর। কাজ না থাকলে বাবার সঙ্গে লোকের বাড়িতে দিন-মজুরি। এর মধ্যে স্কুল, পড়াশুনো। মায়ের মৃত্যুর পরপরই দালালের হাত ধরে দেশছাড়া হওয়া অধীরের। ছোট্ট সেই পরিবারের তখন নবগঙ্গার দেশের মায়া কাটিয়ে গঙ্গার দেশ- স্বপ্নের শহর কলকাতার দিকে যাত্রা। এরপর জীবন আর মৃত্যুর সীমান্ত থেকে রেলস্টেশন, রেলস্টেশন থেকে বস্তি। কিশোর অধীরের তখন ফুটপাথে সব্জির পসরা নিয়ে বসা থেকে গড়ের মাঠে হকারি। অর্ধেকটা জীবন কাটিয়ে, শহর কলকাতার জল হাওয়ায় কৈশোর থেকে প্রান্তবেলায় পৌঁছে ফের মনে পড়ে সেই ছোট্ট নদী নবগঙ্গার কথা, সেই গ্রাম দরিমাগুরা। গ্রাম ছাড়ার সময় অধীরের চোখে জল দেখে দালাল-লোকটি বলেছিল, কলকাতা যাওয়ার সময় কি কাঁদতে আছে? প্রান্তবেলায় চোখে জল নেই, তবু কোথাও যেন কান্না রয়ে গেছে। সেই ছোট্ট নদী, ভাঙা হাটে একা বসে থাকা বাবা, ভাষাহীন দৃষ্টি নিয়ে বসে থাকা মৃত্যুপথযাত্রী মা। অধীর বিশ্বাস নামের লোকটির গায়ে এখনও তবে নদী নবগঙ্গার জলের ঘ্রাণ লেগে আছে, শহর কলকাতা সেই গ্রাম দরিমাগুরার কাছ থেকে অধীরকে ছিনিয়ে আনতে পারেনি এখনও।
Specification
| Titel: | দেশভাগের স্মৃতি (১ – ৪) খন্ড |
|---|---|
| Author | অধীর বিশ্বাস |
| Publication: | গাঙচিল |
| ISBN: | 978-93-86443-92-2 |
| Edition: | 2018 |
| Number of Pages: | 248 |
| Country: | India |
| Language: | Bangla - বাংলা |








